Wednesday , August 4 2021
Breaking News

দক্ষিণ এশিয়ার বিখ্যাত প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র”হলদায়”ডিম ছাড়ল মা মাছ।

মোঃ নাঈম উদ্দিন, রাউজান উপজেলা প্রতিনিধিঃ

এশিয়ার বিখ্যাত প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন স্থান ” হালদা নদী”।সেই হালদায় ডিম ছাড়ল মা মাছ।উৎসবমুখর পরিবেশে মাছের ডিম সংগ্রহ করছেন জেলেরা।গত ২১ মে বৃহস্পিতবার দিবাগত রাতে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ।ডিম সংগ্রহকারী জেলেরা মে মাসের শুরু থেকে ডিমের অপেক্ষায় থাকলেও ভারী বর্ষণ না হওয়ায় ডিম ছাড়েনি মা মাছ।প্রতি বছর এপ্রিল থেকে মে মাসের অমাবস্যা,পূর্ণিমায় ডিম ছাড়ে মা মাছ।সেই হিসাবে ১৯ মে থেকে ডিম সংগ্রহের চেষ্টা চালায় জেলেরা।
বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বর্ষণ হলে শুক্রবার সকাল ৭ টার দিকে ঝাকে ঝাকে মা মাছ উঠে আসে পানির উপরের দিকে। এবং ডিম ছাড়তে শুরু করে মা মাছ।
ডিম সংগ্রহ করতে আসা জেলেদের সাথে কথা বললে জানা যায়ঃ”তারা উৎসাহের সাথে ডিম সংগ্রহের কাজ করছেন”।
বৃহস্পতিবার থেকে শত শত জেলেরা অপেক্ষা করলেও ডিম সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় জেলেরা।তবে শুক্রবার সকাল বেলা ডিম সংগ্রহ করতে সফল হয় জেলেরা।
হাটহাজারী ও রাউজানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৫০ জন পোনা সংগ্রহকারী প্রায় ২৮০ টি ছোট বড় নৌকা দিয়ে ডিম সংগ্রহ করছে।এবার মা মাছ ডিম ছেড়েছে ৩টি স্থানে।সেগুলো হলোঃ আজিমের ঘাট,রামদাস হাট,নাপিতের ঘাট অন্যতম।
ডিম সংগ্রহকারী শাহজান,মামুন,জাহঙ্গীর,সেলিম,বেলাল, সাধন জলদাস,পাবেল জলদাস সহ জেলেরা আশানুরূপ ডিম সংগ্রহের কথা জানান।
রামহাট এলাকার চন্দন দাশ জানান–তার ৭টি নৌকা ডিম সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত।৭টি নৌকা দিয়ে ডিম সংসহ করেছে ১৫-১৬ বালতি।
হালদার ডিম সংগ্রহকারী কামাল জানানঃসকাল ৬টার পর ভাটা শুরু হলে ডিম ছাড়তে শুরু করে মা মাছ।৬টা নৌকা নিয়ে নদীতে আছি।প্রতি জালে ১ থেকে ১.৫ কেজি ডিম আসছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেনঃকোনো টানে ১৫০-৩০০ গ্রাম ও ডিম পাচ্ছেন।জোয়ার শুরু হয়েছে।আর কিছু মাছের আশায় এখনও নৌকা নিয়ে আছি।
মাছের ডিম সংগ্রহের চিত্র সরোজমিনে দেখে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুনায়েদ কবির সোহাগ বলেন–সারা বছর হালদা নদী প্রশাসনের নজরদারীতে ছিল।ডিম সংগ্রহকারী জেলেরা প্রত্যেক নৌকাতে ৫-৬ বালতি করে ডিম সংগ্রহ করেছেন।ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের জন্য সব সরকারী বেসরকারী হেচারী প্রস্তুত আছে।তিনি আরো জানানঃআগের বছরের তুলনায় এবারের ডিমের পরিমাণ বেশি।হালদা এবার অনেকটা আশার আলো দেখিয়েছেন জেলেদের।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী জানানঃশুরুতে মাছের ডিম ছাড়ার পরিমাণ কম হলে ও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ডিমের পরিমাণ বাড়তে শুরু করছে।
হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জানানঃশুক্রবার ডিম সংগ্রহ করার পর জানা যাবে মা মাছ আশানুরূপ ডিম ছেড়েছে কিনা।
গত বছর ২৫মে মা মাছ ডিম ছাড়ে প্রায় ১০ হাজার কেজি।এর মধ্যে রেনু মিলেছিল ২০০ কেজি।যার বাজার দর ১কোটি ৬০লাখ টাকা।
হালদা রিভার রিচার্স ল্যাবেরেটরির তথ্য মতে, হালদা নদী থেকে ২০১৮ সালে ২২হাজার ৬৮০কেজি,২০১৭ সালে ১ হাজর ৬৮০ কেজি,২০১৬ সালে ৭৩৫(নমুনা) ডিম সংগ্রহ করা হয়।

About provatbarta

Check Also

ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় শূন্য বসত ভিটা

হোছাইন মুহাম্মদ তারেক, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় শূন্য হয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: