সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
আমার জন্মই তো অভিশাপের বলছেন মীরজান বিবি

আমার জন্মই তো অভিশাপের বলছেন মীরজান বিবি

নিজস্বপ্রতিবেদক :আমার জন্মই তো অভিশাপের এমনটিই বলছিলেন শ্রীপুরের কাওরাইদ ছোট গ্রাম মধ্যপাড়া এলাকার স্বামী পরিত্যক্তা নারী মীরজান বিবি (৩৫) ।বাবুচিদের সাথে দোয়া মোছার কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন এই নারী ।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন এর ৩নং ওয়াডের সুতিয়া নদীর ধারে ছোট্ট গ্রাম মধ্যপারা সেখানেই বাস করেন অসহায় এই মহিলাটি। মীরজানের খুপরিঘরে শুয়ে আছেন পরিবারের মৃত বাবা ভাই তাই যুগ যুগ ধরে এভাবে মৃত স্বজনদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকছেন মীরজান। মীরজান মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করেন ভিক্ষা করেন না।
পুরোনো পলিথিন টিন, কাঠ ও বাঁশ দিয়ে বানানো ভাঙাচোরা খুপরিঘর। বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজেন শীতের সময় কাঁপতে কাঁপতে দিন পার করে অসহায় স্বামী পরিত্যক্ত মীরজান বিবি। অসহায় মহিলাটির ঘরের দৃশ্যই বলে দিচ্ছে তার মানবেতর জীবন যাপনের কথা।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন এর সুতিয়া নদীর ধারে ছোট্ট গ্রাম মধ্যপারা সেখানেই বাস করেন অসহায় এই মহিলাটি। মীরজানের খুপরিঘরে শুয়ে আছেন পরিবারের মৃত বাবা ভাই তাই যুগ যুগ ধরে এভাবে মৃত স্বজনদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকছেন মীরজান। সরেজমিনে ঈদের পর দিন গিয়ে দেখা যায় ঘরের ভেতরে ঢুকতে চোখে পড়ল চল্লিশোর্ধ একজন নারীর ছোট্ট খুপরির এক কোণে বসে ফুঁপিয়ে কান্না করার দৃশ্য। কেমন আছেন—জিজ্ঞেস করলে জবাব দিলেন না। মাথা নিচু করে থাকলেন কিছুক্ষণ পর আবার হাউমাউ করে কান্না করে বললো ‘আমার জন্মই তো অভিশাপের। কোথাও হোনছেন বাপ-দাদা, আত্মীয়-স্বজন মরলে ঘরের মধ্যে কেউ কয়বর দেয়! সবাই কয়বরকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে, আর আমি কয়বরের উপরে খাই-দাই-ঘুমাই! কী অদ্ভুত জীবন!’
‘ওই যে দ্যাহেন, রান্ধি খাই থাহি ওইহানে বাপ ভাইয়ের কয়বর। পাশের কবরটা ওনার বাবা মিয়া চান ব্যাপারীর । আধা শতকের মতো বাবার জমির ওপর মীরজান যুদ্ধ করে টিকে আছেন। কয়বরের উপরেই ,আমার মরণ হলেও জায়গাটা ছাড়বোনা অনেক মোল্লা মুন্সি ফতোয়া দিছিল তাড়িয়ে দিতে অহনো আছি।’‘ ঘরটুক ছাড়া আমার আর কোনো জাগাজমি নাই।’ মানুষের বাড়িতে কাজ কাম করে কোন বেলা খাই কোনা বেলা না খেয়ে শুয়ে থাকি অসুস্থ হলে কেও দেখতে আসেনা আমার দুইটা মেয়ে ছিল বিয়ে দিয়ে দিছি। স্বামী চার বছর আগে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। মীরজানের দুঃখ-দুর্দশার গল্প যেন ফুরায় না। সমাজের চোখে মীরজান যেন সমাজ থেকে অনেকটাই ভিন্ন।
মীরজানের সমস্যা নিয়ে কথা হয় কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়াড সদস্য আব্দুস সামাদ এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন , ওর (মীরজানের) ব্যাপারে চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হবে। কাওরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক হারুন ফকির এর বড় ভাই শাহিন ফকির বলেন সরকারি কোনো সহযোগিতা মীরজান বিবি পাচ্ছেন না । তবে তাকে ১০ টাকা কেজি চাউলের কাড করে দিয়েছি ,তা এখনো পাইনি ।তিনি আরো বলেন মীরজানের খোজ খবর আমি প্রাই নিয়ে থাকি তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে একটি ঘর নির্মান ও সহযোগিতা করলে ভালো হতো। তিনি আরো বলেন সমাজের বিত্তবান ধনাঢ্য ব্যাক্তিরা যেন অসহায় মীরজানের পাশে দাড়ান।

সংবাদটি প্রচার করুন




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com