সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
প্রতি দরজাতে করোনা কড়া নাড়তে শুরু করেছে : রামগঞ্জের ইউএনও!

প্রতি দরজাতে করোনা কড়া নাড়তে শুরু করেছে : রামগঞ্জের ইউএনও!

 

রিফাত হোসাইন,
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মাহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার জনসাধারণকে শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেকাংশে তা মানা হচ্ছেনা।

রামগঞ্জ উপজেলাতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে ৫৫ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২৫ জন। আর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দুইজন। যদিও মৃত্যুর পর নমুনা পরীক্ষায় তাদের শরীরে ভাইরাসটি ধরা পড়ে।

মরণব্যাধী এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমাতে এবং উপজেলাবাসীকে সুস্থ রাখতে জনগণকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনতাসির জাহান।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত উপজেলার বর্তমান পরিস্থিতি ইউএনও’র তাঁর অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজে তুলে ধরেন। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে বা করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের মৃতদেহ দাফন/সৎকারের জন্য স্বেচ্চাসেবক সদস্যদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি প্রদানে সহযোগীতার হাত বাড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাঠকদের জন্য সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রিয় রামগঞ্জবাসী, সর্বশেষ খবর পর্যন্ত এ উপজেলায় ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্য এবং আমার স্টাফসহ মোট কভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫ তে।

জ্যামিতিক হারে আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। ১,৩,৯…..৫৫….. এ সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ি দেয় আমি জানিনা। দুইজন মৃতের নমুনাও পজিটিভ ছিলো। করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন অনেকেই। জীবিত থাকা পর্যন্ত পরিবার-পরিজন কাছে থাকলেও শরীর থেকে আত্মাটা বেরিয়ে গেলে আত্মার সাথে সাথে তারাও হয়ে যান বিচ্ছিন্ন। দাফনতো দূরে থাক, একটা খাটিয়াও দেওয়ার মানুষ নাই। কাছে আসেনা স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বোনসহ কেউই!!

আর তখনই আমাদের ডাকে সাড়া দেন একদল নিঃস্বার্থ স্বেচ্ছাসেবক, করেননা জীবনের মায়া। রাত ১.৩০ টার সময় গহীন গ্রামের ঘুটঘুটে অন্ধকারেও লাশ দাফন করে বাড়ি ফেরেন তারা। বঞ্চনার শিকার হন সমাজে, কখনো কর্মক্ষেত্রে আবার কখনোবা নিজ আত্মীয়-স্বজনের কাছে। এক একটা মৃতের কেস আসে তখনই আমাদের গলদঘর্ম হয়ে যায়। কারণ লাশ দাফনের জন্য ব্যাগ, টিমের পর্যাপ্ত সুরক্ষা, মাস্ক, গামবুট, ফেসশিল্ড, মোটা গ্লাভস, ডিস্পোজেবল ব্যাগ, পরিবহন, তেলখরচ, মাইক, লাইট, জীবাণুনাশক আরো কতকিছু লাগে। তালেগোলে জোগাড় করে এ পর্যন্ত প্রাত ১০ টি লাশ দাফন করাও হয়েছে। লাশের মিছিল অপেক্ষা করছে নাতো??

প্রায় প্রতি দরজাতে করোনা কড়া নাড়তে শুরু করেছে। প্রস্তুতি নেয়া জরুরী। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান মিলে মহিলা সদস্যসহ প্রায় ৪০ জনের ৩টি টিম করেছি। আমি জানি রামগঞ্জে আছেন অনেক মনে ও ধনে বিত্তবান অনেকেই। তাদের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি।

এই স্বেচ্ছাসেবকদেরকে আমরা কোনো বেতন দেইনা, কিন্তু তাদেরকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা বা পরিবহন সুযোগটা যদি না দিতে পারি তাহলে অদূর ভবিষ্যতে লাশ পঁচবে, গলবে, কেউ কাছে আসবেনা, দাফন বা সৎকার করার জন্য কেউ থাকবেনা। তা হতে দিবেননা প্লিজ। আপনাদের সাথে আমরা সবসময়ই আছি, আপনারা থাকবেননা আমাদের সাথে?

পরিশেষ সবাইকে ঘরে থাকতে বা বাহিরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান ইউএনও মুনতাসির জাহান।

সংবাদটি প্রচার করুন




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com