সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
শিরোনামঃ
‌ ত্রিশাল পৌরসভার বা‌জেট ঘোষণা কোভিড (১৯) রে‌া‌ধে দিনাজপুর জেলা পু‌লিশ সুপা‌রের বি‌শেষ অ‌ভিযান শ্রীপুরে আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত এ‌তি‌মদের ভো‌গের টাকায় উই পোকার আক্রমন করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড ১৯ সংক্রমন বিস্তাররোধ করায় টাঙ্গাইল পৌরসভা ও এলেঙ্গা পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ । ” টাঙ্গাইলে প্রেমিকার আত্মহত্যা “ আওয়ামী লীগের হাত ধরেই স্বাধীনতা সোনার বাংলাদেশ লায়ন আলহাজ্ব আবু তৌহিদ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা সভা ঈশ্বরগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফিং ঈশ্বরগঞ্জে দুই জনের কারাদন্ড
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
ভূত দেখার সৌভাগ্য আমারও হয়েছিল

ভূত দেখার সৌভাগ্য আমারও হয়েছিল


মোস্তফা খলিল রাজু,
———————–
প্রকাশক মোঃ সজিব হোসাইন,
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি

বড়োই পাঁকার ভরা মৌসুম চলছে।থোকা থোকা কাঁচা পাঁকা বড়োই গুলো ডাল-পাতা নিয়ে নুয়ে পড়েছে বড়োইয়ের ভাড়ে।আমাদের ভারই চরপাড়ার প্রায় বাড়িতেই টক বড়োই গাছের সংখ্যা বেশি ছিল। কুল বড়োই গাছের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা কয়েকটি, স্কুলে যাবার সময় গাছে ঢিলিয়ে পারা বড়োই নিয়ে স্কুলে যেতাম, স্কুয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় আবার বড়োই গাছে ঢিলিয়ে, কাঁচা পাঁকা বড়োই তিন পকেটে নিয়ে বাড়ি যেতাম। যার যার সার্মথ অনুযায়ী বড়োই গাছে এঠেল মাটির বড় বড় চাক্কা দিয়ে ঢিল মেরে বড়োই পারা ছিলো, আমাদের যুদ্ধ জয়ের আনন্দ। হাত অনুযায়ী বড়োই গাছে ঢিল ছুঁড়ছে বন্ধুরা, আমি ছিলাম বয়সের তুলনায় আকারে ছোট,আমার কাজ ছিল মোস্তফা ভাইদের বাড়ি থেকে কেউ আসে কিনা তা দেখা,এবং বড়োই কুড়ানো, আমার হাতও ছিল ছোট, আমার ঢিলে কখনোই বড়োই পড়তো না, আমি বড় বড় বড়োই কুড়িয়ে পকেটে রাখতাম,পকেট বোঝাই হলে পেন্টর কোচের গুঁজে রাখতাম,কোন কোন দিন সবার বড়োই একত্র করে সমান ভাগে ভাগ করে নিতাম। কখনো কখনো ভাগ নিয়ে ঝগড়াও হতো।

কখনো দুই একজন, কখনো দল বেঁধে বড়োই পাড়তে যেতাম আমরা। বড়োই গাছে ঢিল ছুঁড়লে ডালের ফাঁক দিয়ে ঢিল পড়তো টিনের চালে। চাক্কা পড়ে শব্দ হতো বলে, মাঝে মধ্যে বাড়ির কেউ না কেউ আমাদের দৌড়ানি দিতেন, কারো কারো বাড়ির বড়োই গাছ তাঁদর বাড়িরপিছনে থাকলে তো কথাই নেই। জালালী উৎসবে আমরা বড়োই পারতাম। দিনে যেমন ঢিল দিয়ে, চেংগা দিয়ে বড়োই পাড়তাম, তেমনি আমরা অনেকেই ভোর রাতে কারো কারো বাড়িতে বড়োই কুড়াতে যেতাম।

১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭২ সালের কোন এক ভোরে, তখনো মসজিদে আজান দেওয়া হয়নি। আমার বাবা আসাদুল ইসলাম (আসাদ স্যার) বাড়িতে না থাকার সুযোগে, আমরা তিন ভাই মোস্তফা হাসান মিঞ্জু, মোস্তফা খালিদ রুলু, মোস্তফা খলিল রাজু প্রায় রাতেই আমরা তিনজন এক বিছানাতেই ঘুমাতাম। মা কখনো পাশের বিছানায় কখনো পাশের রুমে ঘুমাতেন।

বিশেষ কোন এক ভোর রাতের কথা। মসজিদে আজানের আগে আমার ঘুম ভেঙে গেলো, বড়োই কুড়াতে যাবার উত্তেজনায়। আমি বুদ্ধি খাটিয়ে নিজেই আজান দিয়ে দিলাম,তখনকার সময় মসজিদে মাইকে আজানের ব্যবস্থা ছিলো না, বড় দুই ভাইকে বললাম আজান দিয়েছে উঠো বড়োই কুড়াতে যাবো,তাড়াতাড়ি করো, মা জেগে উঠলে যেতে দিবে না, মা মনে হয় একবার বলেছিলেন, এহনো আজান দেয় নাই,বাইরে ধলা অইলে যাইস, মাকে বুজিয়ে আমরা তিন ভাই ছুটলাম (খইলা বাড়ির দিকে) ভারই চর পাড়ার এ্যাড.গোলাম মোস্তফা ভাইদের বাড়ির দিকে, মোস্তফা ভাইদের বাড়িতে বড় বড় বড়োই গাছ ছিল, কিন্তু সেই বড়োই গাছের বড়োই পড়তো মালেক মাস্টার সাহেবের বাড়ির উঠানে এবং বাহির বাড়িতে।

আমার হাতে ছিলো কুপিবাতি, মিঞ্জু ভাই রুলু ভাই দুইজনের একজনের হাতে ছিলো পাট সোলায় ধরানো আগুন। তাঁরা দুই ভাই বাহির বাড়িতে বড়োই কুড়াতে গেলো। আমি ভিতর বাড়িতে বড়োই কুড়াচ্ছিলাম।বড়োই কুড়াতে কুড়াতে আমার চোখ গেলো রান্না ঘরের মধ্যে, ঘরের এক কোনে পাশ ফিরে দাঁড়িয়ে ছিল, আমাদের পাড়ার জহুরা পাগুলনী,আমরা তাকে খালা বলে ডাকতাম, ভাবছিলাম আজ রাতে জহুরা খালা বাড়িতে যায় নাই। জহুরা খালা ও জহুরা খালা ডাকতে ডাকতে কাছে যাচ্ছিলাম, এমন সময় আমার দিকে যেই তাকালো, দেখলাম এক বিভৎস মুখ, এমন এক চিৎকার দিয়েছিলাম যে আমি নাকি উঠানে গিয়ে পরেছিলাম।

এরপর আমার দুই ভাই বাহির বাড়ি থেকে চিৎকার দিয়ে ভিতর বাড়িতে পড়েছিলেন। মালেক মাস্টার সাহেবের মা-বাবা সহ আরও কয়েক জন দরজা খুলে বেড়িয়ে এলেন। মালেক মাস্টার সাহেবর মা বললেন, আজান এহনো দেয় নাই, তোমাগোরে তোমার মায় আবার দিলো ক্যা, তোমাগোর আগেই আওন ঠিক হয় নাই। রুলু ভাই বলেছিল, তাঁদেরকে খাইটা দিয়া কে কে যেন চেংগা দিয়েছিল।

আমি কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম,ও-ই খানে জহুরা খালা আছিলো। কেউ আমার কথা বিশ্বাস করলো না। uআমাদের কে পানি পড়া খাওয়ালেন, আগুনে হাত-পা ছেঁকালেন। সকালে আমারা জানতে পেরেছিলাম,জহুরা খালা তার মায়ের সাথে এক বিছানাতেই ঘুমিয়ে ছিলো।

সংবাদটি প্রচার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com