সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
আমার দেশে এত কালো টাকা কৈ থেকে আসে!

আমার দেশে এত কালো টাকা কৈ থেকে আসে!

 

লিখছেন : একেএম আব্দুজজাহের আরেফী

সূর্য বসাক,
স্ট্যাফ রিপোর্টার

আমার দেশে মোট কত কালো টাকা আছে মনে হয় এর কোনো হিসাব নেই?

রাজস্ব বোর্ড ও সরকারি হিসাব মতে এ পর্যন্ত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে ১৬ বার।
তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কালোটাকা সাদা হয়েছিল ২০০৭/৮ অর্থবছরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।
ওই দুই বছরে প্রায় ৩২ হাজার লোক এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে কালো টাকা সাদা করেছে!এ পর্যন্ত কালো টাকা সাদা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ।
আর এর থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে এক হাজার চারশত ৫৪ কোটি টাকা।
বর্তমান সরকারের আমলে ২০১২-১৩ অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার একটা স্থায়ী নিয়ম করা হয় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করা হয়।এমনকি অনেক পুরনো কালোটাকা সাদা করার নিয়ম রাখা হয়েছে।

কালো টাকা উপার্জনের খাতগুলো কি কি!

দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি গবেষণা সংস্থা টিআইবি ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কালো টাকার উপরে একটা গবেষনা চালিয়েছে।
এবং এর ফলে প্রতিবছরই তারা কালোটাকা সাদা করার বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।

টিআইবির প্রধান পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন!যে সাধারণত কালো টাকা উপার্জন করা হয়।

পেশাজীবীদের অপ্রদর্শিত আয় যেমন!
চিকিৎসক প্রকৌশলী শিক্ষক এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের পেশাগত চর্চার এর বাহিরেও অন্যভাবে আয় করার অনেক সুযোগ রয়েছে যদি তারা আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এই টাকা না দেখান তাহলে তা কালো টাকায় পরিনত হয়।

ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ!

অর্থ পাচার
পাচার করার অর্থই বাংলাদেশের কালো টাকার একটি বড় অংশ বলে মনে করা হয়। দেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার করে আবার সে অর্থ দেশে আনার খবর শোনা যায়।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় #দুই_বিলিয়ন ডলার পাচার হয় বলে গবেষকদের ধারণা।

নিষিদ্ধ পণ্যের ব্যবসা, কালোবাজারি, চোরাকারবার মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা বেশ বড়ো বাংলাদেশে। এসব কাজে উপার্জিত সকল অর্থকেই কালো টাকা বলে মনে করা হয়।কারণ এসব ব্যবসা বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ।যদি কেউ এই ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তাহলে সেটা কালো টাকা বলে বিবেচিত হবে।

আন্ডার ইনভয়েসিং ও ওভার ইনভয়েসিং ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি কালো টাকা উপার্জন হয়। এই পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে কাগজ পত্রে দাম কম/বেশি দেখিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া।এর মাধ্যমে যেই অর্থ সরানো হয় সেটাই কালো টাকা।
২০১৫ সালে বাণিজ্য কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রায় 6 বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

জমি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জমিনের যেই মূল্য সরকার নির্ধারিত এর চেয়ে অনেকগুণ বেশি মূল্যে জমি ক্রয় বিক্রয় করা হয় কিন্তু রেজিস্ট্রেশন সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেখানোর মাধ্যমে সরকারের কর ফাঁকি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীরা,
টিআইবির এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি ২-৩০ তারা যে অর্থ উপার্জন করে কাগজপত্র দেখাচ্ছেনা এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কর ফাঁকি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে কি পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ২০০৫ সালের এক গবেষণায় দেখা যায় ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের কালো টাকার পরিমাণ ছিল মোট জিডিপির ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির অদৃশ্য অর্থনীতি নামক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে জিডিপির ১০-৩৮ শতাংশ এর মধ্যে উঠানামা করে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি তখন সামগ্রিক অর্থনীতির উপর থেকে অদৃশ্য অর্থনীতির ক্ষতিকর প্রভাব রাতে ১১ দফা সুপারিশ করে।
এর মধ্যে প্রথম প্রধান সুপারিশ ছিল কালো টাকা সাদা করার সুযোগ কে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কার্যকর অটমেশন চালু করে কালো টাকা সাদা করার পথকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।(সুত্র বিবিসি বাংলা)

কিন্তু অটমেশন চালু হলেও বন্ধ হয়নি কালো টাকা উপার্জনের উৎস।
প্রতিবছরের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ারমাধ্যমে মূলত ঘুষ-দুর্নীতি কালোবাজারি চাঁদাবাজি মানিলন্ডারিং সহ সকল অসৎ পথে উপার্জনকে উৎসাহিত করা হয়।এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় দুর্নীতি ঘুষ চাঁদাবাজি কালোবাজারিকে !

এখন প্রশ্ন হচ্ছে! তাহলে এই দুর্নীতি দমন কমিশন রেখে লাভ কি? যেখানে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন কে পরবর্তীতে বৈধতা দেওয়া হয় ।তাহলে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রয়োজনটা বা কি?

আর বিশেষ করে বর্তমান যেই বিশ্বময় করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক মন্দা চলতেছে এর মধ্যে বাংলাদেশে যেই বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে তা কখনো জনকল্যাণমূলক বা নাগরিক বান্ধব বাজেট নয়। বিভিন্ন খাতে থোক বরাদ্দের মাধ্যমে মূলত দুর্নীতিকে আরো বেশি সহজ করে দেওয়া হয়েছে এই বাজেট এর মাধ্যমে পুঁজিপতিরা আরো বেশি জনগণকে শোষণ করতে পারবে।কিন্তু সাধারন জনগন ভাতের অভাব এই মরবে।

আপনি একদিক থেকে বলবেন অস্ত্রব্যবসা মাদকব্যবসা অবৈধ ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি অবৈধ অন্যদিকে এই পদগুলিতে উপার্জিত অর্থ কে আপনি দেবেন বৈধতা। তাহলে মনে রাখবেন কখনো এদেশ থেকে এই কালো টাকা উপার্জনের পথ বন্ধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত কালো টাকাকে সাদা করার পথ চিরতরে বন্ধ করো না করা হবে।

পাশাপাশি সচেতন দেশবাসীকে বুঝতে হবে! দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে কখনো দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বা রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়!যারা নিজেরাই দুর্নীতি করে তারা কখনো দুর্নীতিবাজদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে না, কিংবা সমাজ বা রাষ্ট্র থেকেও দুর্নীতি বন্ধ হবে না। অতএব যতক্ষণ পর্যন্ত ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কায়েম না হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা না হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই কালো টাকা উপার্জনের পথ বন্ধ হবে না।
তাই আসুন দুর্নীতি-দুঃশাসন মুক্ত একটি আদর্শিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সংগ্রাম করে যাই। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দেশের সচেতন ছাত্র সমাজকে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাগিয়ে তুলি।

সংবাদটি প্রচার করুন




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com