সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
মানুষখেকো ও বিষাক্ত পিরানহা মাছ জব্দ এবং বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড প্রদান।

মানুষখেকো ও বিষাক্ত পিরানহা মাছ জব্দ এবং বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড প্রদান।

 

শাহীন ইসলাম বরিশাল জেলা প্রতিনিধিঃ- রাক্ষুসে পিরানহা মাছ বিক্রির গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই বাজারে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী সুজা। অভিযানকালে প্রায় ১০০ কেজি রাক্ষুসে পিরানহা মাছ জব্দ করা হয় এবং মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের ৩ ধারা( মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালার ১৬ নং বিধি) লঙ্ঘন করায় একই আইনের ৫(১) ধারা মোতাবেক বিক্রেতাকে ৫০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ক্রেতা ও বিক্রেতার ভাষ্য মতে বাজারে দেশি রুপচাদার নামে বিক্রয় হচ্ছে ক্ষতিকারক ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পিরানহা মাছ। উল্লেখ্য পিরানহা নামের মাছটি মূলত আমাজন নদীর একটি ভয়ঙ্কর মাছ। মানুষখেকো হিসেবেও এই মাছটি পৃথিবীতে পরিচিত। পিরানহা মাছটি প্রথম আফ্রিকায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। সে দেশে পিরানহা মাছ উৎপাদন হওয়ার পর মাছটির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে জানা গেছে, মাছটি মানুষের খাবার উপযোগী নয়, এটি বিষাক্ত মাছ। একপর্যায়ে এই মাছ বাংলাদেশে চলে আসে। পিরানহা মাছ খেলে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে কিডনী ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে। এসব মাছ রান্না করলে অত্যধিক তাপে বিষের উপাদান এক অবস্হা থেকে অন্য অবস্হায় রূপান্তর হতে পারে। কিন্তু এতে বিষ খুব একটা তারতম্য হয় না। যারা মনে করেন রান্না করলে বিষ নষ্ট হয়ে যায় তা নিতান্ত ভুল ধারণা। এসব মাছ খেলে সাময়িক ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বড় বড় দাঁত বিশিষ্ট পিরানহা মাছ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় ২০০৭ সালে এ মাছ সংরক্ষণ, বিপনন, প্রজনন ও প্রদর্শণ বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অভিযানকালে জব্দকৃত মাছ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী সুজার সামনেই ধ্বংস করা হয়। অধিকন্ত বাজারে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পিরানহা মাছের ক্ষতিকারক দিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয় এবং বিক্রেতাদের এই মাছ বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়। এছাড়া অদ্য দুপুর ১২:০০ থেকে ০১:০০ গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড ও বন্দর এলাকায় বিকাল ০৪:০০ টার পর দোকান বন্ধ রাখার ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হয়। উক্ত অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান জনস্বার্থে বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি প্রচার করুন




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com