সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
ঈশ্বরদীতে মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি,সাময়িকভাবে বরখাস্ত ৩জন

ঈশ্বরদীতে মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি,সাময়িকভাবে বরখাস্ত ৩জন

শেখ মাহাফুজ আলম -রেলওয়ের মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন মালবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি,থেকে তেল চুরি, বিক্রয় ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অপরাধে তিনজনকে পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকৃতরা হলেন ঈশ্বরদীতে ট্রেনচালক নাজমুল হোসেন, সহকারী ট্রেনচালক খাইরুল ইসলাম ও ট্রেন পরিচালক রোকনুজ্জামান। রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) নাসির উদ্দিন গতকাল বিকেলে বরখাস্তের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় অফিস, ডিএমই (লোকো), রেলওয়ে নিরাপত্তা অফিস সূত্র মতে, গত রবিবার রাতে বরখাস্তকারীরা একটি খালি মালগাড়ি (নম্বর-আরএইচকে সিক্সডাউন, ইঞ্জিন নম্বর ৬৪০৩) নিয়ে রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদীতে আসছিল। পথি মধ্যে তারা পরস্পরের যোগসাজশে লোকমানপুর স্টেশন এলাকায় মালগাড়িটি থামায়। তখন চারজন তেল চোর মালগাড়ির চালক ও পরিচালকের সহযোগিতায় ইঞ্জিনে ওঠে। তারা ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি ও বিক্রি করার চেষ্টা করে। বিষয়টি রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নজরে আসায় তারা তেল চুরি ও বিক্রয়ে বাধাদান করে। কিন্তু বরখাস্তকারীরা এই সময় নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়।
তারপরও কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আবুল হোসেন ও আব্দুল আওয়াল তেল চোরদের আটক করার চেষ্টা করে। এ সময় দুই চালকসহ তেল চোরেরা মিলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এতে উভয়ের জামাকাপড় ছিড়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালকরা ট্রেনের গতি কমিয়ে দিলে চোররা ইঞ্জিন থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় চালকরা চোরদের তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত পলিথিনের বস্তা জানালা দিয়ে ফেলে দেয়।
পাকশী কন্ট্রোল অফিসের অনুমতি ছাড়াই মালগাড়িটিকে একপর্যায়ে রহস্যজনক ও সম্পূর্ণ অনিয়ম করে আজিমনগর স্টেশনে থামিয়ে দেয়। প্রায় সেখানে বেশ কিছুক্ষণ মালগাড়িটি অপেক্ষা করার পর রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী স্টেশন ইয়ার্ডে প্রবেশ করানো হয়। এরপর ইঞ্জিন কেটে লোকোশেডে নিয়ে ইঞ্জিনের ট্যাংকির তেল পরিমাপ করে ২৬ শ লিটার তেল রিজার্ভ পাওয়া যায়। ঘটনার পরই নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ কমান্ডেন্ট রেজোয়ান উর রহমান,পাকশীর ডিএমই (লোকো) আশিষ কুমার পাল ও অন্যান্য কর্মকর্তারা লোকোশেডে উপস্থিত হয়ে ইঞ্জিন পরিদর্শন করেন।
এই বিষয়ে জানতে বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে পাকশীর ডিএমই (লোকো) আশিষ কুমার পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) নাসির উদ্দিন জানান, তেল চুরি, বিক্রয়ের চেষ্টা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে ট্রেনচালক নাজমুল হোসেন, সহকারী ট্রেনচালক খাইরুল ইসলাম ও ট্রেন পরিচালক রোকনুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তের জন্য সহকারী পরিবহন কর্তকর্তা, সহকারী মেকানিক্যাল ও রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমাডেন্টকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদটি প্রচার করুন




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com