Friday , July 30 2021
Breaking News

বাসাভাড়া সংক্রান্ত সমস্যায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্ববৃন্দ

হাসান সোহান, জবি প্রতিনিধি

আসন্ন করোনা দুর্যোগে দেশের একমাত্র অনাবাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে অতিক্রম করছে। অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বাসাভাড়া বা মেস ভাড়া করে থাকে। আর এই মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়া যোগান দিত টিউশন, কোচিং ও পার্ট টাইম চাকুরী করে, এমনকি কোন কোন শিক্ষার্থীর পরিবার চলত তার উপর নির্ভর করে। তবে গত মার্চ মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয় তথা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার সাথে শিক্ষার্থীরা বিপদের মুখে পড়ে যায়। একদিকে পড়াশোনা গতি হারিয়ে ফেলে, অপরদিকে টিউশন, কোচিং তথা অন্যান্য উপার্জনের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যায়।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংকটে বাড়িতে অবস্থান করলেও শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে মেস ভাড়া। অধিকাংশ বাড়িওয়ালা চাপ দিতে থাকে শিক্ষার্থীদের উপর। কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালারা ভয়ংকর হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সম্পূরক বৃত্তির আবেদন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বিরুপ মন্তব্য করে বসেন। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বারবার আশ্বাস দিলেও মাস পেরিয়ে গেল কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রহসন দেখে দেখে সময় পার করছে।

অধিকাংশ মেস মালিকরা সময়ের সাথে সাথে অমানবিক হয়ে উঠছে, দিচ্ছে অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া সঠিক সময়ে না দিতে পারায় শিক্ষার্থীদের মুল্যবান সার্টিফিকেট ও জিনিসপত্র ভাগাড়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এই সংকটাবস্থায় কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছে জামাল উদ্দিন, সৈয়দ শাকিল, শান্ত নাজমুল বাবু, আসাদুজ্জামান আসাদ, নুরুল আফসারসহ অনেকে। শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যার কথা অবহিত করলে তারা বাড়িওয়ালার কাছে মানবিক আবেদন করে যৌক্তিক সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া হ্রাস করেন এবং তাদের মালামাল ও অন্যান্য জিনিসপত্র বুঝিয়ে দেন। যদি কেউ মেস ছেড়ে দেয় তাহলে তাদের মালামাল ও অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

মেস মালিকদের সাড়া পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, “মানবিক কাজে কিছু কিছু সমস্যা তো থাকবেই, তবে মেস মালিকদের মানবিকতাই আমাদের কাজের অংশ।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শান্ত নাজমুল বাবু বলেন, “আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য দাদার নির্দেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ করোনা মহামারী শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের বাসা ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা উনিশ সদস্য বিশিষ্ট সেচ্ছাসেবী টিম গঠন করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর পাচ দফা দাবি জানিয়েছি যা অতিশীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করি।”

তাছাড়া বাসা ছাড়ার পর বড় সমস্যা হচ্ছে নিরাপদে মালামাল রাখা।

এ বিষয় জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন,
“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বাড়ির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করে সমাধান করছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে, যৌক্তিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের পাশে আছে এবং যেকোনো মানবিক, যৌক্তিক বিষয়ে সুষ্ঠ সমাধানের জন্য বদ্ধপরিকর।”

About shahin

Check Also

নবীন ও প্রবীন ফেনীর মিডিয়া ও গণমাধ্যম কর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত!

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ আজ রাতে শহরে একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে এই মিলন মেলার আয়োজন করা হয়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: