সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃ প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন।

ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃ প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন।

এস আর রনি, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি। 

ঐতিহাসিক পাহাড়পুরে আজ থেকে শত শত বছর পূর্বে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক বিকাশ সাধন করার জন্য (৭৮১-৮২১ অব্দে) বিশ্বমানের শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলে। 

আর সেই ঐতিহ্য ও পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস লব্ধ ঘটনা সমূহ ধরে রাখার জন্য এশিয়া মহাদেশের প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃ প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষ একাধিক বার মানববন্ধন করে চলেছে। 

নওগাঁ জেলা থেকে ৩০ কিমি উত্তরে বদলগাছী উপজেলায় পাহাড়পুরে এই বিহারটি অবস্থিত।  রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতাব্দীর শেষার্ধে  আনুমানিক (৭৭৫-৮২১ অব্দে) তিনি বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  

আর এই পাহাড়পুরের আদি নাম ছিলো সোমপুর বিহার।বর্তমানে পাহাড়পুর ও সোমপুর বৌদ্ধ বিহার নামে পরিচিত। বাংলাদেশে যে কয়েকটি প্রত্নতত্ত্ব স্থান রয়েছে তার মধ্যে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার অন্যতম।  আমাদের গৌরব ও অহংকারের পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য চিত্র হিসেবে সর্বস্বীকৃত। 

এবং বৈদিক যুগে গুরু গৃহকেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতি বিবর্তিত হয়ে উপমহাদেশের প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার যে শুভ সূচনা ঘটে সোমপুর বৌদ্ধ বিহার অনন্য ভূমিকা রেখে গেছে। 

সোমপুর বৌদ্ধ বিহারে শিক্ষাদান ও জ্ঞানচর্চার জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উপনীত হয়েছিল। এখানে চীন, তিব্বত প্রভৃতি দূর দেশ থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিদ্যা অর্জনের জন্য আসতেন তা ইতিহাস স্বীকৃত। 

তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সহনশীলতার ঐতিহ্য পাহাড়পুরের এই সোমপুর বৌদ্ধ বিহারটি ও জ্ঞান বিদ্যা চর্চার পাঠদান গুলোর ভূমিকা অসামান্য। 

মাননীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি নিয়ে জানান যে এখানে (৭৮১-৮২১ অব্দে) এশিয়া মহাদেশের প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। তারই অববাহিকায় সেই বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃ প্রতিষ্ঠার দাবিতে আজ বেলা ১২ টায় বদলগাছী উপজেলা চত্বরে সকল নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ সফল ভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি সম্পূর্ণ করেন। 

উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক জনাবঃ ইমামুল আল হাসান তিতু, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান।

আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব জনাবঃ বৈদ্যনাথ সরদার টপ্য। ও যুগ্ম আহ্বায়ক জনাবঃ মিজানুর রহমান কিশোর, পাহাড়পুর ইউপি চেয়ারম্যান। আরও উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক জনাবঃ মোঃ সামছুজ্জামান হিরা সহ জনাবঃ শহীদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব জনাবঃ জাজরা বিন পলাশ।

তাছাড়াও ছিলেন জনাবঃ সুমন হোসেন, মোস্তাক জাকারিয়া, সাকিব, কারিম, আরাফাত হোসেন ডলার সহ সর্বস্তরের জনগণের ঐক্য প্রচেষ্টায় সাফল্যমন্ডিত ভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।  এবং প্রানের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি প্রচার করুন




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com