সদ্য প্রাপ্ত
দে‌শের প্রতি‌টি জেলা উপ‌জেলায় সংবাদকর্মী নি‌য়োগ দেওয়া হ‌বে। আগ্রহিরা যোগা‌যোগ করুনঃ ০১৯২০৫৩৩৩৩৯
শিরোনামঃ
সবাইকে ঈদ-উল ফিতর এর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মশিউর রহমান বিপ্লব নিউ গ্রীন সিটি হসপিটাল এন্ড ডায়গনস্টিকে “ইন্টারন্যাশনাল নার্সেস ডে “ উদযাপন। রায়পুরে সাবেক ছাত্রনেতা মনোয়ার হোসেন মাছুম এর ত্রান বিতরণ, ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া মিরপুর থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার খাইরুল আলম ফেনীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ পক্ষ থেকে রমজান উপলক্ষে ১০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর সরকারের গাড়ি ভাংচুর গাজীপুরে সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ শ্রীবরদী বাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মান্নান সরকার নবীনগরে ১৮০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরন কর্মহীনদের মাঝে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় ভিজিএফএর অর্থ প্রদান
লক্ষ্মীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই খুন করা হয় শিশু কন্যা রাহিমাকে, আদালতে পিতার স্বীকারোক্তি

লক্ষ্মীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই খুন করা হয় শিশু কন্যা রাহিমাকে, আদালতে পিতার স্বীকারোক্তি

রিফাত হোসাইন, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পিতার হাতেই শ্বাসরোধে খুন হয় দেড়বছর বয়সী শিশুকন্যা ফারহানা আক্তার রাহিমা। সোমবার (১১ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট রায়হান চৌধুরীর আদালতে ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সন্তান হত্যাকারী ঘাতক পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু (৪৫)। ঘাতক মনু চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বরাজাপুর গ্রামের মৃত হোসেন চোরা ওরফে খোরশেদ আলমের পুত্র।

বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে ঘাতক ফয়েজ আহাম্মদ মনু খুনের বর্ণনা দিতে গিয়ে জানায়, পাশের বাড়ির মতিনদের সাথে জমি পরিমাপ এবং বিদ্যুতের লাইন টানা নিয়ে তার সাথে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছিল। তাদেরকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতেই নিজের শিশুকন্যাকে হত্যার একক পরিকল্পনা নেয় পিতা মনু। গত ৫ই মে তারিখ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বাড়িতে খেলাধূলা করছিল শিশু রাহিমা। এসময় সবার অজান্তে রাহিমাকে বাড়িতেই গলা টিপে হত্যার পর নিথর দেহটি কোলে তুলে বাড়ি থেকে একটু দূরে নির্জন ঝোঁপের কাছে নিয়ে সেখানেই লাশ লুকিয়ে রাখেন।

এরপর বাড়িতে এসে তার মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন সবাই। সারাদিন চলে যাওয়ার পর রাত ১০টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মেয়ে হারানোর সাধারণ ডায়রি করেন পিতা মনু নিজেই। এরপর পুলিশসহ বাড়ির আশপাশের বিভিন্নস্থানে শিশু রাহিমাকে খোঁজাখুজি করা হয়। কিন্তু তাকে আর পাওয়া যায়নি। ৮ মে শুক্রবার রাত ১২টার পরে শিশু রাহিমার লাশ ওই ঝোঁপের থেকে নিয়ে এসে নিজবাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেয় পিতা মনু নিজেই। পরদিন শনিবার সকাল ৭টায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় ফোনে খবর দেয় তার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে তার বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকিতে। এরপর পুলিশ এসে সেপটিক ট্যাংকি থেকে শিশু রাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় শিশু রাহিমার মা’ রাশেদা আক্তার সুমি বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৬/১০৫)।

সোমবার সন্ধ্যায় বিজ্ঞ আদালতে দেয়া খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা সাংবাদিকদের জানান, চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান স্যারের দিকনির্দেশনায় শিশুকন্যা রাহিমা হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। তিনি আরো জানান, খুনের যাবতীয় পরিকল্পনা ও লাশ গুমের বর্ণনা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উম্মোচিত হওয়া সন্তোষ প্রকাশ করেন ওসি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, হত্যার রহস্য উম্মোচনে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার আলামতসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ভিকটিম শিশুর মাকে বাদি করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর এবং শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার পিতার গতিবিধি আমাদের কাছে শুরু থেকে সন্দেহ হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের কৌশলী জেরার মুখে আদালতে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয় শিশুটির পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আরো উপস্থিত ছিলেন- এসআই আবু মুসাসহ অন্যান্যরা।

সংবাদটি প্রচার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2020 Daily Provat Barta
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com